ঘূর্ণিঝড় এর ক্যাটেগরি সমুহ

ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের জন্য অন্যতম ভয়ানক একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগের নাম। প্রতিবছর এর ফলে বহু মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা, ফসলসহ জানমালের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। তবে ঘূর্ণিঝড় কিন্তু হুটহাট করে তৈরি হয়না।

সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা দেখি যে বর্ষা আসার আগে এপ্রিল থেকে মে মাস এবং বর্ষা বিদায়ের পর অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে বঙ্গোপসাগর অনুকূল থাকলে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।

একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম। তবে ঘূর্ণিঝড়ের এই শক্তি অর্জন করতে বেশকিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। একটা‌ ঘূর্ণিঝড় সাগরে সৃষ্টি হতে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়। শুরুর দিকে এটা সাধারণ একটা লঘুচাপ আকারে থাকলেও‌ একটা সময়ে এসে সেটা সর্বোচ্চ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। তখন একে ক্যাটাগরি ৫ মাত্রার সুপার সাইক্লোন বা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বলে। একটা ঘূর্ণিঝড় তৈরির প্রাথমিক পর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর এই ধাপগুলো সাধারণত বাতাসের গতিবেগের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। বাতাসের গতি যত বাড়তে থাকে ঘূর্ণিঝড় ততই শক্তিশালী হয়।

ঘূর্ণিঝড়গুলোর বায়ুপ্রবাহের গতিবেগের উপর ভিত্তি করে এর তীব্রতা বোঝাতে “সাফির সিম্পসন হারিকেন স্কেল” নামক একটি বিশেষ স্কেল অনুযায়ী যেকোন ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়কে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়।

চলুন তাহলে এক নজরে জেনে নেই সাফির সিম্পসন হারিকেন স্কেল অনুযায়ী একটা ঘূর্ণিঝড় তৈরির একদম প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির শক্তি অর্জন হওয়া অবধি বাতাসের গতিবেগ কত থেকে‌ কত হলে এর কি নাম দেয়া‌ হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত।

বি:দ্রঃ এখানে বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ এক মিনিট স্থিতি ধরে হিসেব করা হয়েছে।

১. লঘুচাপঃ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি সার্কুলেশন বা ঘূর্ণাবর্ত যখন কিছুটা শক্তিশালী হয়ে এর বাতাসের গতি ঘন্টায় ২৫ থেকে ৩৪ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে তখন একে লঘুচাপ বলা হয়।

. সুস্পষ্ট লঘুচাপঃ বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে থাকলে একে বলা হয় সুস্পষ্ট লঘুচাপ।

৩. নিম্নচাপঃ বাতাসের গতি যখন ঘন্টায় ৪৫ থেকে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে তখন এটাকে নিম্নচাপ বলা হয়।

. গভীর নিম্নচাপঃ বাতাসের গতি যখন ঘন্টায় ৫৫ থেকে ৬২ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে তখন একে গভীর নিম্নচাপ বলে।

৫. ঘূর্ণিঝড়ঃ বাতাসের গতি যখন ঘন্টায় ৬৩ থেকে ১১৮ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে তখন একে ঘূর্ণিঝড় বলা হয়।

৬. ক্যাটাগরি-১ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ঃ এসময় বাতাসের গতি থাকে ঘন্টায় ১১৯ থেকে ১৫৩ কিলোমিটারের মধ্যে।

৭. ক্যাটাগরি-২ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ঃ এসময় বাতাসের গতিবেগ থাকে ঘন্টায় ১৫৪ থেকে ১৭৭ কিলোমিটারের মধ্যে।

৮. ক্যাটাগরি-৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ঃ এসময় বাতাসের গতিবেগ থাকে ঘন্টায় ১৭৮ থেকে ২০৮ কিলোমিটারের মধ্যে।

৯. ক্যাটাগরি-৪ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ঃ এসময় বাতাসের গতিবেগ থাকে ঘন্টায় ২০৯ থেকে ২৫১ কিলোমিটারের মধ্যে।

১০. ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার সুপার সাইক্লোন বা অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ঃ এটা হলো ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থা। এসময় বাতাসের গতিবেগ থাকে ঘন্টায় ২৫২ কিলোমিটার বা তারও অধিক।

আশা করি আপনাদের কিছুটা হলেও বোঝাতে পেরেছি। ধন্যবাদ সবাইকে। BANGLADESH WEATHER OBSERVATION TEAM -BWOT